গত এক দশকে টেস্ট ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং মান যেভাবে নিম্নমুখী হয়েছে, তাতে কুমার সাঙ্গাকারা বা মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো বিশ্বমানের ব্যাটারের সন্ধান করা এখন প্রায় বৃথা। ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজেও ধুঁকতে থাকা লঙ্কান দলের ব্যাটিং লাইনআপ যখন খাদের কিনারায়, ঠিক তখনই আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠেছেন দুই তরুণ ব্যাটার সোনাল দিনুশা ও পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা।
ভারতের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের তৃতীয় দিনে এই দুই তরুণ ব্যাটার দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সোমাল দিনুশা ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে সিরিজের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজের দাবি জোরালো করেছেন। স্পিন বল মোকাবিলায় তাঁর চমৎকার সুইপ শট কুশল মেন্ডিসের প্রাথমিক দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে, বদলি হিসেবে নেমে ৮০ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলেছেন পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা। শর্ট বল মোকাবিলা এবং রিভার্স সুইপের চমৎকার প্রদর্শনী দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দলের নিয়মিত ব্যাটাররা ফিরে আসলেও টেস্ট দলে তাঁর আরও সুযোগ পাওয়া উচিত।
তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মনে শঙ্কাও রয়েছে। অতীতেও বেশ কয়েকজন লঙ্কান ব্যাটার দুর্দান্ত সূচনা করেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেননি। দিনেশ চান্ডিমাল, লাহিরু থিরিমানে বা কুশল মেন্ডিসদের ক্যারিয়ারের শুরুর ঝলক এবং পরবর্তী সময়ে ফর্মহীনতায় পড়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এমনকি দারুণ ফর্মে থাকা কামিন্দু মেন্ডিসও এখন নিজের সেরা ছন্দের খোঁজে সংগ্রাম করছেন।
তরুণ দিনুশা ও সুরিয়াবান্দারা সাময়িক স্বস্তি দিলেও লঙ্কান ক্রিকেট কাঠামোর মূল সমস্যা হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারা। প্রতিপক্ষের অ্যানালিস্টরা খেলোয়াড়দের টেকনিক ধরে ফেলার পর বেশিরভাগ লঙ্কান ব্যাটারই ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে বড় ধরনের অবনতির (Regression stage) মুখে পড়েন। দিনুশা ও সুরিয়াবান্দারা এই চেনা চক্র ভাঙতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন