|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বদলে যাওয়া পশ্চিম এশিয়া এবং ইরানের কৌশলগত অবস্থান

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক বিশাল মোড় পরিবর্তন করেছে। সামরিক জোট ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বে ভরপুর এই অঞ্চলে চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তিনটি প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্র প্রথমবারের মতো একমত হয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ার প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা তাদের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সম্মিলিতভাবে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কাঠামোগতভাবে এটি সরাসরি ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট না হলেও, যৌথ প্রতিরক্ষার এই নীতির কারণে তুরস্ক একে ন্যাটোর মূলনীতির সঙ্গে তুলনা করেছে। দেশগুলো কেবল কাগজে-কলমে চুক্তি করেই থেমে নেই; বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়মিত আলোচনার পাশাপাশি স্থল, নৌ ও আকাশপথে যৌথ সামরিক মহড়া, চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে।

মক্কা চুক্তির আবির্ভাব কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনার ফল নয়, এর পেছনে রয়েছে চলতি বছরের শুরুতে ঘটে যাওয়া এক গভীর সংকট ও অমীমাংসিত যুদ্ধ পরিস্থিতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও পারমাণবিক কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও জুলাইয়ে তা ভেঙে যায় এবং হরমুজ প্রণালিসহ সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে থাকে। ইরানের সঙ্গে চলমান এই দ্বন্দ্বে সৌদি আরব নিজেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইনগুলো যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন রিয়াদ উপলব্ধি করে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চিরকাল ওয়াশিংটনের ওপর অন্ধের মতো ভরসা করা বোকামি হবে। যে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র নিজেই শুরু করেছিল, তা শেষ করতে তাদের ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য করেছে। তাই মক্কা চুক্তিকে শুধু ‘মুসলিম ন্যাটো’ বা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী সামরিক আয়োজন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে গড়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ।

তবে এই চুক্তির সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে এর sectarian বা ধর্মীয় বিভাজনমূলক ব্যাখ্যার মধ্যে। কেউ কেউ একে শিয়া ইরানকে মোকাবিলার জন্য সুন্নি দেশগুলোর সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলেও, প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো শুরু থেকেই এই সংকট সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তাদের স্পষ্ট ঘোষণা, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং চুক্তির শর্তে রাজি থাকলে যেকোনো দেশই এতে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য রিয়াদ কোনো চিরস্থায়ী সংঘাত চায় না, বরং তেহরানের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সহাবস্থানের পথ খুঁজছে। এ কারণেই সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের পারমাণবিক অভিজ্ঞতা এবং তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যুক্ত হয়ে এক অনন্য ভারসাম্য তৈরি করেছে। এর সঙ্গে মিশরের মতো দেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে, যা বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া এবং লোহিত সাগরের লজিস্টিক করিডোর এক সুতোয় গেঁথে যাবে এবং চুক্তিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ইরানও এই পরিবর্তিত ভূরাজনীতি অত্যন্ত সংযত ও ঠান্ডা মাথায় পর্যবেক্ষণ করছে। তেহরান ভালো করেই জানে যে সরাসরি এই চুক্তির বিরোধিতা করলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই একটি স্থায়ী আঞ্চলিক জোট পাকাপোক্ত হয়ে উঠবে। তাই ইরানের কৌশল হলো সামরিক সংঘাতে না গিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে বোঝাপড়া বজায় রাখা, বিশেষ করে যখন হরমুজ প্রণালির মতো ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের জন্যও এই চুক্তি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি শক্ত রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত মক্কা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় নতুন কোনো স্নায়ুযুদ্ধ ডেকে আনবে, নাকি বহুকাঙ্ক্ষিত আঞ্চলিক শান্তির স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করবেতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়, মিশরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং গাজা ও লেবাননের সংকটের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের ওপর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

1

আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, জাবি

2

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

3

ম্যানচেস্টার সিটির কাছে রদ্রির জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তা

4

অর্থের অভাবে কোনো নাগরিকের চিকিৎসা বন্ধ হবে না: সমাজকল্যাণমন

5

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ

6

ঈদুল আজহা ২০২৬ সম্ভাব্য তারিখ | ঢাকা ফাইলস

7

হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: মাইনের আঘাত

8

রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৩১, মামল

9

কুড়িগ্রাম পৌরসভার সিইও ফজলে রাব্বী প্রত্যাহার: কর্মকর্তা-কর

10

সপ্তাহ দুই দিন ছুটিসহ এসিআইয়ে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি, বেতন ৫০

11

গাজীপুরে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

12

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা

13

বাংলাদেশের এই ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের আগ্রহ ও এর

14

শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে দুই মাদকচক্রের সংঘর্ষে ২৬ জন নি

15

জাতির প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী

16

জনআস্থার রাজনীতি: সস্তা জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বে মানুষের কল্যাণ

17

এআই এজেন্টের অগ্রগতি নিয়ে কর্মীদের যা বললেন মার্ক জুকারবার্গ

18

ফরিদপুরে বাসের ধাক্কায় ইউপি সচিব নিহত

19

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই ১৮ উইকেট পতন, স্টার্কের সাথে ৬ উ

20