রাজধানীর ব্যস্ততম বাবুবাজার এবং বাদামতলী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, ভাসমান দোকান এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বাবুবাজার ব্রিজ সংলগ্ন বাদামতলী এলাকা থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। সড়ক ও ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাখতে এবং তীব্র যানজট নিরসনে ডিএমপির এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ এলাকার শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইজারা বাতিল করা চারটি ব্লকের অবৈধ ভাসমান দোকান, বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা এবং যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া বাদামতলী থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা যানবাহন, রাস্তার ওপর বসানো ফলের দোকান এবং ফুটপাত দখল করে থাকা অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাগুলোও বুলডোজার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীর এবং কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি ট্রাফিক) একেএম মনজুরুল আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে ডিসি মো. মফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাকসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ২১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ভাতের হোটেল পরিচালনার অভিযোগে এক দোকানদারকে আটক করা হয়েছে।
ভারী যানবাহন চলাচলের নির্দিষ্ট নিয়ম স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টার পর ভারী যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে পারবে এবং সকাল ৮টার মধ্যে বের হয়ে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো যানবাহন সড়কে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বাবুবাজার ব্রিজ এলাকার যানজট নিরসনে ব্রিজের সিঁড়িগুলোর ভূমিকা এবং ফুটপাত দখলকারী ভ্রাম্যমাণ ট্রাকগুলোর বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জনস্বার্থে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন