রাজধানীর শাহজাহানপুর থানাধীন রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটের সুপার এজেন্ট এবং মূল অ্যাডমিন মো. অহিদুর রহমানকে (৪৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পরিচালিত এই সফল অভিযানে চক্রটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পাকড়াও করা হয়। র্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, অহিদুর দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খুলে নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং সাইটের প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন এবং দেশের ভেতরে সুপার এজেন্ট হিসেবে জুয়া পরিচালনা করে আসছিলেন।
গ্রেফতারের সময় অহিদুরের হেফাজত থেকে জুয়া পরিচালনায় সরাসরি ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, দুটি সিমকার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা বিকাশ ও নগদে থাকা লক্ষাধিক টাকা, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-৩ ব্রান্ডের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আসামির মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ব্রাউজার হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে একাধিক আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইটের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চক্রটি মূলত ফেসবুকের ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত এবং বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটে জুয়া খেলার জন্য সাইটের নিজস্ব ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ‘পিবিইউ’ বিক্রি করত।
র্যাবের তদন্তে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে। চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ লেনদেন করত এবং জুয়া ও বেটিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নামে-বেনামে জমি ও বিলাসবহুল গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। র্যাব-৩ জানিয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত অহিদুর রহমানের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং তথ্যের সূত্র ধরে এই চক্রের বাকি পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
র
মন্তব্য করুন