সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে দেশজুড়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মোট ১৪ হাজার ২৬০ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দেশটিতে অবস্থান করছিলেন কিংবা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন, তাদের টাইর করে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই এক সপ্তাহে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ৯০০ জনকে ধরা হয়েছে কেবল আবাসন বা ইকামাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে। এ ছাড়া, সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের কারণে ৩ হাজার ৯৮২ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৩৭৮ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৫২৪ জনকে আটক করা হয়, যার বড় একটা অংশে প্রায় ৬৩ শতাংশ ইথিওপীয় এবং ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক ছিলেন, আর বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের। পাশাপাশি, অবৈধভাবে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টার সময় ৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা বা আশ্রয় দেওয়ার সাথে জড়িত অভিযোগে ২৪ জন সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এসব প্রবাসীদের অনেকেই বর্তমানে আইনি কাঠামোর মধ্যে রয়েছেন, যার মধ্যে ২৯ হাজার ৯৬১ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৬১ জন নারী বিভিন্ন ধাপে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর মধ্যেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ১৩ হাজার ৭২৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ যদি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পার হতে সহায়তা করে, পরিবহন কিংবা আশ্রয় দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনকি এই অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাসহ অভিযুক্তদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে।
মন্তব্য করুন