|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে নতুন মুখ নাকি চুক্তি নবায়ন? জানুন সবশেষ তথ্য

আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হতে যাচ্ছে প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে থাকা কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনে এখন নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সবাই তাকিয়ে আছেন সরকার কি তাদের চুক্তির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করবে, নাকি প্রশাসন পরিচালনায় নতুন কোনো মুখের ওপর আস্থা রাখবে। সরকারের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এবারের নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই দুটি পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে সেটি কেবল ব্যক্তিগত পদায়ন নয়, বরং বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কৌশল এবং ভবিষ্যতের সংস্কার পরিকল্পনার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থেই কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ড. নাসিমুল গনি এবং মো. এহছানুল হক দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ড. নাসিমুল গনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং এহছানুল হক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো, উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কাজের সমন্বয় সাধনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেবল প্রথাগত পদ্ধতি অনুসরণ না করে বরং বর্তমান প্রশাসন পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।

প্রশাসনিক অঙ্গনে এখন কান পাতলেই কয়েকটি নাম শোনা যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের নাম বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ তাকে এগিয়ে রেখেছে। একই আলোচনায় রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, যিনি বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এবং মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনে তার সুনাম রয়েছে। অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতায় তিনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এছাড়াও শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি অনুযায়ী সাধারণত জ্যেষ্ঠতম সিনিয়র সচিবকেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে অতীতেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নজির রেখেছে। তাই বর্তমান কর্মকর্তাদের চুক্তি নবায়ন হবে নাকি নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটি এখন সময়ের অপেক্ষা। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির দায়িত্বকাল নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে সুপেরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের একাংশের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের এই সর্বোচ্চ দুই পদ কেবল চেয়ার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় এবং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর শৃঙ্খলা রক্ষায় এই দুই কর্মকর্তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রভাবশালী। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুকের মতে, প্রশাসনিক শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পদমর্যাদার চেয়ে ব্যক্তির সততা, গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রশাসন পরিচালনায় তার প্রকৃত দক্ষতাই হওয়া উচিত মূল মাপকাঠি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল হালান্ডের নরওয়ে

1

সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে নীতীন নবীনের বিতর্কিত মন্তব্য: পাল্টা

2

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ৪৫০ পদে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

3

ইরানে স্থল সেনা অভিযানে অনীহা ট্রাম্প প্রশাসনের: কেন আকাশপথই

4

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস ও মির্জা ফখরুলের বাণী ২০২৬ | পানির ন্

5

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে হবিগঞ্জের সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁ

6

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন: ভরিতে কমলো সাড়ে ৬ হাজার টাকা

7

লিগস কাপে সান্তোস লাগুনাকে উড়িয়ে দিল শিকাগো ফায়ার, লেভানদোভস

8

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা: কারণ ও রাজনৈত

9

ফিরে এলেন ফিবি ব্রিজার্স: নতুন অ্যালবাম 'লস্ট উইকেন্ড' এবং ক

10

অন্যায়ের প্রতিবাদে নবীজির (সা.) শেখানো শিষ্টাচার ও ইসলামের

11

‘হামলা করলে পাল্টা আঘাত পাবে’: যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের কড়া

12

অবশেষে এক ফ্রেমে দেখা হলো আয়মান সাদিক ও সাদিয়া আয়মানের

13

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও ৩ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা

14

গফরগাঁওয়ে ঘর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রসহ দুজনে

15

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: সেমিফাইনালে র‌্যাংকিংয়ে

16

১২ গজের নিঃসঙ্গতা: বিশ্বকাপের নিষ্ঠুরতম ও আবেগঘন মুহূর্তের গ

17

মাত্র ৩০ সেকেন্ড সাইক্লিংয়ে শরীরে ঘটে যেসব আশ্চর্যজনক পরিবর্

18

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেট প্রতি ভরির নত

19

ইসরাইলের পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা ছিল সিনওয়ারের, ফাঁস হওয়া নথ

20