|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আসল নায়কেরা আজ উপেক্ষিত: ছাত্রনেতা নাহিদের বুকফাটা আক্ষেপ

গত বছরের ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চলাকালে হাইকোর্টের সামনে উত্তাল রাজপথে টিয়ারশেল ও পুলিশের পৈশাচিক তাণ্ডবের মাঝে হঠাৎ একদল পুলিশ নির্মমভাবে চেপে ধরেছিল এক তরুণের মুখ। স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে চিরতরে রুদ্ধ করে দিতে চাওয়া সেই তরুণ আর কেউ নন, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের সাহসী শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাহিদুল ইসলাম। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন বা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বইয়ের পাতায় পড়া এই তরুণ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিজেই রাজপথে নেমে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি বসে যখন তিনি সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করছিলেন, তখন বারবার তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জলের ধারা। নাহিদের মতে, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছকে হয়নি, বরং এটি জন্ম নিয়েছিল একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনের শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় ঐতিহাসিক এক দফা দাবিতে।

পুলিশের হিংস্র থাবা এড়িয়ে বুক পেতে বুলেটের আঘাত নেওয়া নাহিদের শরীর ও মনের ক্ষত আজও শুকায়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই রক্তাক্ত ছবি দেখে গোটা দেশের মানুষ শিউরে উঠলেও, সেই বুলেটের জ্বালা এবং সহযোদ্ধাদের আর্তনাদ আজও তার অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে আছে। ভয়াল সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আজও তার স্বর রুদ্ধ হয়ে আসে, রাতের আঁধারে আতঙ্কে লাফিয়ে ওঠেন তিনি। ১৬ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কারফিউ ভাঙার মতো চরম ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা স্মরণ করে নাহিদ জানান যে দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই তারা মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়েছিলেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের পতন অনিবার্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি সেই স্বৈরাচারের পতন না ঘটানো যেত, তবে আজ এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার বা কথা বলার কোনো অধিকারই অবশিষ্ট থাকত না।

তবে বিপ্লব ও স্বৈরাচারের পতনের পরও নাহিদের বুকজুড়ে রয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। রাজপথের রক্তভেজা সেই তরুণদের আজ যেভাবে সুকৌশলে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, তার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান যে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করা মানুষগুলো আজ সমাজ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিপ্লবের মূল সুফলভোগী কারা এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে বর্তমানে মধ্যস্বত্বভোগী ও সুশীল সমাজের মুখোশধারী কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ সমাজে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যারা দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ক্ষমতার কেবল রদবদল নয়, বরং দেশের সাধারণ শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে চান এই তরুণ যোদ্ধা। নাহিদের ভাষায়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অধিকার থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নেই। তিনি চান প্রতিটি নাগরিকের অধিকারের পাশাপাশি ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত হোক। বুলেটের রক্তে ভেসে যাওয়া নাহিদের মতো হাজারো তরুণের বুকচেরা আর্তনাদ আর সুশীলতার মুখোশধারী শোষকদের প্রতি এই তীব্র ধিক্কার আজও এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন হয়ে তাড়া করে ফিরছে পুরো জাতিকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিযান: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক মাস

1

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বড় জয়ের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া

2

জিম্বাবুয়েকে ধসিয়ে নাহিদ রানার ইতিহাস, বাংলাদেশের পক্ষে সে

3

সম্পর্ক উন্নয়নে মেগানকে রাজার শর্ত মানার পরামর্শ হ্যারির!

4

এসএসসির ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ ২০২৬: অনলাইনে খাতা চ্যালেঞ্জ করার

5

শরিফ ইউনিভার্সিটিতে বোমা হামলার নিন্দা মার্কিন কংগ্রেস সদস্য

6

রদ্রির হাতে ট্রফি দিয়েও কেন মঞ্চে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন ডোন

7

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাক উল্টে পথচারী নিহত, আহত ৪

8

তারেক রহমান সরকারের প্রথম বাজেটের আকার ৯.৩৮ লাখ কোটি

9

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন

10

দেশের ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস: নদীবন্দর

11

সরকারি কার্যবণ্টন বিধিমালা সংশোধনে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ন

12

New Zealand vs Belgium: FIFA World Cup 2026 Match Preview

13

প্রথম ম্যাচে খেলছেন না নেইমার

14

পাথরঘাটা থানার ওসিকে প্রত্যাহার

15

রোমে লেবানন ও ইসরাইলের সপ্তম দফার চূড়ান্ত বৈঠক চলছে

16

জুলাই সনদ অসাংবিধানিক হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: সারজিস আলম

17

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি নিয়ে ইরান ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে শাহবা

18

৯ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

19

সুনামগঞ্জে এমপির গলায় রামদা ধরে দলিলে সই নেওয়ার অভিযোগে মাম

20