সরকারি কাজের দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয় আরও কার্যকর করতে ‘কার্যবণ্টন বিধিমালা, ১৯৯৬’-এর তৃতীয় তফসিল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সরকারি প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘কার্যবণ্টন বিধিমালা, ১৯৯৬’-এর তৃতীয় তফসিল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অফিসিয়াল পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি অধিশাখা থেকে উপসচিব শারমিন ইয়াসমিনের স্বাক্ষরে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কার্যবণ্টন বিধিমালা ১৯৯৬-এর ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্দিষ্ট রয়েছে। এছাড়া বিধিমালার দ্বিতীয় তফসিলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সরকারি কাজের দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হলে বা সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে, দ্রুত তা নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ১০ নম্বর বিধি অনুযায়ী ক্ষমতা অর্পণ এবং ১১ নম্বর বিধির আলোকে প্রয়োজনে বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কার্যাবলি পুনরায় পর্যালোচনা করে তৃতীয় তফসিল হালনাগাদের উদ্যোগ নিতে বলেছে। পাশাপাশি, বর্তমানে চলমান কার্যবণ্টন এবং প্রস্তাবিত কার্যবণ্টনের একটি তুলনামূলক বিবরণী প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল এবং সেই পরিপত্রের ধারাবাহিকতায় বর্তমান কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করতে হবে। দেশের সকল সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিবদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যা সরকারি কর্মকাণ্ডে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।