ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপসেরা স্পেন। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববারের এই মহারণের আগে ফুটবলবিশ্বের নজর এখন কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলার দিকে। ফাইনালে তাঁর প্রিয় শিষ্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নাকি নিজের মাতৃভূমি স্পেন কার পক্ষে থাকবে গার্দিওলার সমর্থন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচের পদ ছাড়ার পর বর্তমানে কোনো দলের ডাগআউটে না থাকা এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান ও সমীকরণ প্রকাশ করেছেন। পুরো বিশ্বকাপে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো দলকে সমর্থন করেননি জানিয়ে গার্দিওলা বলেন, “বিশ্বকাপে আমি সুনির্দিষ্ট কোনো দলকে সমর্থন দিইনি। তবে পছন্দের খেলোয়াড়দের প্রতি ঝোঁক ছিল। সেসব খেলোয়াড়ের দলের প্রশংসা করেছি এবং তাদের উৎসাহ দিতে পেরে আমি খুশি।”
নিজের দেশ স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে গার্দিওলা মাঝমাঠ ও তরুণ তুর্কিদের ওপর ভরসা রাখছেন। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানসিটির সাবেক এই সফল কোচ বলেন, “যদি মাঝমাঠে পেদ্রির সঙ্গে রদ্রি তার মানের যথাযথ প্রদর্শন করতে পারে, লামিনে ইয়ামাল নিজের সেরা দিতে পারলে স্পেন পার্থক্য গড়ে দিতে পারবে।” বিশেষ করে তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ইনজুরির কারণে এই তরুণ কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও তার অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও দাপুটে মনোভাব একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
অন্যদিকে প্রিয় শিষ্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন গার্দিওলা। আর্জেন্টিনাকে ‘ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, মেসি বর্তমানে তাঁর সেরা ফর্মে আছেন, যা আর্জেন্টিনাকে মানসিকভাবে বেশ এগিয়ে রাখবে। কারণ মেসি এমন একজন ফুটবলার যিনি মাঠের যেকোনো পরিস্থিতি একাই বদলে দিতে পারেন।
এক দশক সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর গত জুনে ইতিহাদ স্টেডিয়াম ছেড়েছেন ৫৬ বছর বয়সী গার্দিওলা। নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে পর্দার আড়ালে থেকে নতুন কিছু করতে চান তিনি, তবে সুযোগ হলে আবারও ম্যানচেস্টার সিটিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবেক লিভারপুল বস ইয়ুর্গেন ক্লপের নাম স্মরণ করে গার্দিওলা বলেন, ক্লপ মাত্র ২০ মিনিটেই ম্যাচের পুরো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারতেন, যা তাকে ভাবিয়ে তুলত।
মন্তব্য করুন