ফুটবল মাঠে ভাগ্য সবসময় সমান্তরালভাবে চলে না, আর বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স সেটিই চরম তিক্তভাবে উপলব্ধি করলেন। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ড্র হওয়ার পথে থাকা ম্যাচটি বেলজিয়ামের হাত থেকে ফসকে গেল কেবল ল্যামেন্সের একটি ছোট অসাবধানতায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই গোলরক্ষক ৭০ মিনিটে থিবো কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ৮৮ মিনিটে পাউ কুবারসির একটি শট গ্রিপ করতে গিয়ে যে ভুল তিনি করলেন, তা বেলজিয়ামের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করে দেয়।
ম্যাচটিতে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ শুরু থেকেই বেশ চাপের মুখে ছিল, তবে নিয়মিত গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরিতে পড়ার আগে অসাধারণ ৪টি সেভ দিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। ৭০ মিনিটে কোর্তোয়া উরুর চোটে চোখের জলে মাঠ ছাড়ার পরই যেন বেলজিয়ামের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। তার অনুপস্থিতিতে ল্যামেন্সের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয়সূচক গোলটিতে রূপ নেয়। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল মেরিনো, যিনি মাঠে নেমেছিলেন মাত্র ৮৬ মিনিটে, তিনি সেই রিবাউন্ড বলটি কাজে লাগিয়ে গোল করেন।
মিকেল মেরিনো যেন এখন স্পেনের নতুন ট্র্যাজেডিমুক্ত রূপকথার নায়ক। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছিলেন এই আর্সেনাল তারকা। ২০১০ সালের পর স্পেনকে আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তোলা এই ফুটবলার ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান যে, প্রস্তুতির পাশাপাশি ভাগ্যের সহায়তা না থাকলে এমনটা সম্ভব হতো না। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এখন আগামী মঙ্গলবারের ফ্রান্সের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছেন, যাকে তিনি ‘পরাশক্তিদের লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন।
ম্যাচ শেষে ল্যামেন্সের ক্যারিয়ারের এই অন্ধকার মুহূর্তটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে চলছে তীব্র সমালোচনা। একদিকে কোর্তোয়ার মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের অভাব, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের সেই ভুল সব মিলিয়ে বেলজিয়ামের জন্য এটি এক বড় ট্র্যাজেডি। তবে মেরিনোর অসামান্য গোল-ক্ষুধা এবং স্পেনের টেকটিক্যাল জয় এখন ফুটবলবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে। ল্যামেন্সের জন্য এই ভুলটি ব্যক্তিগত স্তরে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হলেও, ফুটবলের এটাই নিষ্ঠুর বাস্তবতা, যেখানে এক মুহূর্তের বিচ্যুতি পুরো দলের স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন