দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা বাদে দেশের বাকি সব এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে শিক্ষামন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার প্রভাব বিবেচনায় আপাতত সেখানকার পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর সায়েন্সল্যাব মোড় ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’ এমন সব স্লোগান নিয়ে তারা রাস্তায় নামেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সংকটের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের কারণে সায়েন্সল্যাব ও উত্তরা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা জনজীবনকে ব্যাহত করে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের জন্য অন্যায্য। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখসহ অন্য আন্দোলনকারীরা জানান, গত সোমবারের পরীক্ষার অভিজ্ঞতায় যে ভোগান্তি হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউমার্কেট ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাস্তা খালি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন যে, তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ করা উচিত। পরীক্ষা স্থগিত ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামসহ পরবর্তী কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন