ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এটি আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং মোহামেদ সালাহর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
আর্জেন্টিনা চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হওয়ার পর শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দেকে ৩–১ গোলে হারিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। মেসি এখনও তার জাদুকরী পাস ও বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার মাধ্যমে দলের মূল চালিকাশক্তি। হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোল করার সামর্থ্য এবং এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা এখন শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
অন্যদিকে, মিশরের জন্য এই বিশ্বকাপ এক রূপকথার গল্পের মতো। হোসাম হাসানের অধীনে তারা যেভাবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, তা আফ্রিকার ফুটবলের নতুন জাগরণের ইঙ্গিত দেয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারের নাটকীয় জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। মোহামেদ সালাহ দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচে নিজে থেকে আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওমর মারমুশ ও গোলরক্ষক এল-শেনাওয়ির ফর্ম তাদের স্বপ্নকে আরও বেশি বাঁচিয়ে রেখেছে।
ম্যাচের কৌশলগত লড়াই হবে মাঝমাঠে, যেখানে এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পলের বিপরীতে ত্রেজেগে ও হামদি ফাতহি বলের নিয়ন্ত্রণ রাখার লড়াই করবেন। মেসি কিংবা সালাহ—যিনিই আজ জ্বলে উঠবেন, সেই দলেরই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। আর্জেন্টিনা কোচ ও মেসি দুজনেই মিশরকে পূর্ণ সম্মান দিচ্ছেন, অন্যদিকে সালাহ ও তার দল কোনো প্রকার ভয় ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত।
আটলান্টার ৭১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে আজ লাতিন আমেরিকার শিল্পের সঙ্গে আফ্রিকার অদম্য লড়াইয়ের এক অনন্য মিশেল দেখা যাবে। শেষ বাঁশি বাজার পর কোয়ার্টার ফাইনালের আনন্দে কে ভাসবে? মেসির শেষ নৃত্যের গল্প আরও লম্বা হবে, নাকি সালাহ আফ্রিকার ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লিখবেন? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।
মন্তব্য করুন