রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত। বিস্তারিত পড়ুন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে আরও একটি মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) ঘোষিত এই রায়ে আদালত রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৬৫ বছর বয়সি সাবেক এই প্রেসিডেন্ট অবৈধভাবে জনমত জরিপ সেবা গ্রহণ এবং তার বিনিময়ে রাজনৈতিক সুবিধা প্রদানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
আদালতের রায়ে উঠে এসেছে যে, ইউন সুক-ইওল একজন রাজনৈতিক ব্রোকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে প্রায় ২৭ কোটি ওন বা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের জনমত জরিপ সেবা নিয়েছেন। তিনি মোট ১৪ বার এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং বিনিময়ে একজন সাবেক সংসদ সদস্যের মনোনয়নে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ওই ব্রোকারকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। যদিও ইউন সুক-ইওল নিজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং তিনি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আইনি জটিলতায় ঘেরা সাবেক এই প্রেসিডেন্টের জন্য এটি একটি নতুন ধাক্কা। এর আগে আদালত একই জরিপ সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কোন-হি-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন রায় দিয়েছিল, যেখানে কোনো স্বার্থের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউনের ক্ষেত্রে বিচারক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ইউন সুক-ইওল বর্তমানে অন্তত আটটি আইনি মামলার মুখোমুখি আছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদী সামরিক আইন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে আপিল প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া গত সপ্তাহে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তার সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। একের পর এক আইনি পরাজয় ও দণ্ডাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতির ইতিহাসে ইউন সুক-ইওলের অধ্যায়কে আরও বেশি বিতর্কিত ও জটিল করে তুলেছে।