ফুটবল মাঠে অনেক সময় গোল বা জয়ের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানবিকতা ও দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বেলজিয়াম যখন অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি পেল, তখন সবার প্রত্যাশা ছিল দলের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুই বলটি স্পট কিকের জন্য বেছে নেবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে লুকাকু বলটি তুলে দেন সতীর্থ ইউরি টিলেমানসের হাতে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সেই মুহূর্তে লুকাকুর এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত শোক ও দলের প্রতি অটুট আনুগত্য।
ম্যাচ শেষে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে লুকাকু বলেন, ‘আমি চাইলেই পেনাল্টিটি নিতে পারতাম, কিন্তু মানসিকভাবে আমি এখন খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয় বড়। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছে, ইউরির শট নেওয়াটাই দলের জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।’ লুকাকুর এই কথা থেকেই স্পষ্ট, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং দলের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন।
লুকাকুর এই মানসিক লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার বাবার মৃত্যুর শোক। রজার লুকাকু, যিনি নিজেই একজন ফুটবলার ছিলেন, তার মৃত্যু রোমেলুকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে। সেই শোকের প্রভাব তার পেশাদার ক্যারিয়ারেও পড়েছে; ইতালির নাপোলিতে ইনজুরি ও ছন্দের অভাবে কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের শুরুটাও তার জন্য সহজ ছিল না, তবে শেষ দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে তিনি পুনরায় নিজের চেনা ছন্দে ফেরার বার্তা দিয়েছেন।
আবেগপ্রবণ লুকাকু বিশ্বাস করেন, কঠিন এই পথচলায় তার বাবার আশীর্বাদই তাকে সাহস জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওপর থেকে আমার বাবাই আমাকে সাহায্য করছেন।’ সেনেগালের বিপক্ষে এই জয় এবং পেনাল্টি নিয়ে নেওয়া তার এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত বেলজিয়ামের ড্রেসিংরুমে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে। এখন লক্ষ্য রাউন্ড অব ১৬-এ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ। লুকাকু এবং বেলজিয়াম এখন সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরবর্তী লড়াইয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায়।
আপনার কি মনে হয়, ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে লুকাকুর এই ঘুরে দাঁড়ানো বেলজিয়ামকে এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে?
মন্তব্য করুন