মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ ছিল প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৮ রানে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের হয়ে ১০৫ রান করা সাদমান ইসলাম নিজের ইনিংস আরও বড় করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
মিরপুরে বৃষ্টির বাধায় প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও পুরো সময় খেলা হয়নি। বৃষ্টির কারণে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পরও যতটুকু খেলা হয়েছে, তাতে দিনের প্রথম দুই সেশনে দাপট দেখিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান করেছে ক্যারিবীয়রা। তেজনারায়ণ চন্দ্রপল ১৪৫ বল খেলে ৪৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন। জাস্টিন গ্রেভসের সংগ্রহ ২২ বলে ১৫ রান। বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন সাদমান ইসলাম। মিরপুরের উইকেটের আচরণ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকায় সে অনুযায়ী নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে ইনিংসটি আরও বড় করতে না পারায় আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। সাদমান জানান, উইকেট নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বল অনুযায়ী স্বাভাবিক খেলাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা।
সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি ফিটনেস নিয়েও কাজ করেছেন সাদমান। কয়েকবার ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, আজকের ইনিংসটি আরও কিছুটা বড় করতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি হয়তো বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন হতে পারত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের তুলনায় বাংলাদেশের স্পিনারদের পারফরম্যান্স নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন সাদমান। তাঁর মতে, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম অভিজ্ঞতার কারণে ভালো জায়গায় বল করছেন। মিরাজের বলে উইকেট পাওয়ার পেছনে বল নতুন থাকার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
নিজেকে ঘিরে সমালোচনাকেও স্বাভাবিকভাবে দেখছেন সাদমান। বাইরের আলোচনা নিয়ে বেশি চিন্তা না করে অনুশীলন, ম্যাচ খেলা এবং দেশের হয়ে পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি। তাঁর মতে, খেলোয়াড়ের জীবনে সমালোচনা থাকবেই, তবে নিজের কাজ ঠিকভাবে করাই মূল বিষয়।
এদিকে লিটন দাসের চোট নিয়েও আশাবাদী সাদমান। তাঁর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিটনের ইনজুরি আপাতত গুরুতর নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্রুতই তিনি ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সাদমান।