২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স ও স্পেন। ডালাসের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ফুটবল প্রেমীদের কাছে ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে পরিচিত। একদিকে ফ্রান্সের দুর্দান্ত গতিময় আক্রমণভাগ, অন্যদিকে স্পেনের বল দখলভিত্তিক সুশৃঙ্খল ফুটব সব মিলিয়ে ডালাসের মাঠে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের অপেক্ষা করছে বিশ্ব।
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেন কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। এর মধ্যে স্পেন জয় পেয়েছে ১৮টি ম্যাচে, অন্যদিকে ফ্রান্স জিতেছে ১৩টিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর। ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই ছিল দুই দলের একমাত্র দেখা, যেখানে জয়ী হয়েছিল ফরাসিরা।
সাম্প্রতিক ফর্মের দিকে তাকালে স্পেনকে কিছুটা বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হওয়া স্বাভাবিক। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে হারানো এবং উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় স্প্যানিশদের মানসিকভাবে এগিয়ে রেখেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে হারের পর থেকে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকা স্পেন রক্ষণভাগে অবিশ্বাস্য রকমের অজেয় হয়ে উঠেছে। এই সময়ে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করার কোনো সুযোগই দেয়নি।
অন্যদিকে ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে, যা এর আগে করতে পেরেছিল কেবল জার্মানি ও ব্রাজিল। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের ফর্ম ফ্রান্সের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা। এবারের আসরে ছয় ম্যাচে আট গোল করা এমবাপের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলা মিলে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর শক্তিতে পরিণত করেছেন। ডালাসের এই ম্যাচে ফ্রান্স কি পারবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে, নাকি স্পেন তাদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেবে সেই উত্তরের অপেক্ষায় সারা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক।
আজকের এই ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে আপনার কি কোনো নির্দিষ্ট প্রেডিকশন বা মতামত আছে?
মন্তব্য করুন