২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়ার পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ব্যালন ডি’অর জয়ের সমীকরণ। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় রদ্রির পাশাপাশি তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল বা পাউ কুবারসি কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্বে এবং হ্যারি কেনদের নাম উঠে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বকাপ না জিতলেও কি লিওনেল মেসি বা অন্য কেউ মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিততে পারবেন? এমন আলোচনার মধ্যেই সোমবার নিজেদের অবস্থান ও নীতিমালা স্পষ্ট করেছে বার্ষিক ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ব্যালন ডি’অর জিততে হলে ইউরোপের কোনো লিগে খেলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের কোনো খেলোয়াড়কেই যে এই পুরস্কারের জন্য বেছে নিতে হবে, এমন ধারণার পক্ষেও নয় তারা। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে ম্যাগাজিনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে অতীতে ববি চার্লটন (১৯৬৬), পাওলো রসি (১৯৮২), লোথার ম্যাথিউস (১৯৯০), জিনেদিন জিদান (১৯৯৮), রোনালদো (২০০২) এবং ফাবিও কানাভারোরা (২০০৬) বিশ্বকাপ জয়ের সুবাদেই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। তবে ২০১০ সালে বার্সেলোনায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে পেছনে ফেলে এই প্রথা প্রথম ভেঙেছিলেন খোদ লিওনেল মেসি। একইভাবে ২০১৪ সালে ম্যানুয়েল নয়্যার ও মেসিকে টপকে এই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আর ২০১৮ সালে ফাইনাল হেরেও ফরাসি তারকাদের পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন লুকা মদরিচ।
সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৩ সালে দলীয় ও ব্যক্তিগত দুই মুকুট একসঙ্গে পুনরুদ্ধার করেছিলেন মেসি। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও আয়োজকদের মূল বার্তাটি বেশ স্পষ্ট। প্রতিবেদনের শেষে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জেতাটা সহায়ক, তবে এটা ব্যালন ডি’অরের নিশ্চয়তা দেয় না। এই পুরস্কার জিততে হলে পুরো মৌসুমে সেরা খেলোয়াড় হতে হয়, শুধু বিশ্বকাপে নয়।’ আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠছে।
মন্তব্য করুন