ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামলেও মাঠের বাইরে বিতর্ক যেন থামছেই না। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে রেফারিং ও ভিএআর (VAR) এর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইনাল ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আর্জেন্টিনায় একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ‘চেঞ্জডটওআরজি’ (Change.org) প্ল্যাটফর্মে চালু হওয়া এই পিটিশনে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
গিসেলা সানচেজ নামের এক আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থকের চালু করা এই আবেদনে ফিফার কাছে ফাইনাল ম্যাচের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের পারফরম্যান্স এবং ভিএআর-এর ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তার অভিযোগ, ম্যাচের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত খেলার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক বা যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অবশ্য ক্রীড়া আইন ও ফিফার প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র অনলাইন পিটিশন বা জনমতের ভিত্তিতে কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল বা ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং এ ধরনের আবেদনের কোনো আইনি বা আনুষ্ঠানিক বৈধতা থাকে না। এর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিতর্কিত ঘটনার পর ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও প্রায় ৮২ হাজার মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে একটি অনলাইন ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত কোনো ফল বয়ে আনেনি। উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন জয়লাভ করে। শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা দল ও লিওনেল মেসির প্রতি অকৃত্রিম সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, যদিও বুয়েন্স আয়ার্সে পরবর্তীতে কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
মন্তব্য করুন