এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তালাকনামা তৈরি করে স্বাক্ষর যুক্ত করলে কি শরিয়ত অনুযায়ী তালাক কার্যকর হয়? সাত মসজিদ মাদ্রাসার মুফতির ফতোয়ার আলোকে বিস্তারিত।
আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে দৈনন্দিন নানা দাপ্তরিক ও আইনি কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। তবে এআই-এর মাধ্যমে তালাকনামা তৈরি করে তাতে নিজের স্বাক্ষর বসিয়ে দিলে শরিয়তের বিধানে তালাক কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার আলোকে জানানো হয়েছে, পদ্ধতি যাই হোক না কেন, শরিয়তের মূল শর্তসমূহ পূরণ হলে এআই দিয়ে তৈরি তালাকনামার মাধ্যমেও তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।
যশোরের নওয়াপাড়ার এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়ে শরয়ি ফতোয়া প্রদান করেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া (সাত মসজিদ)-এর ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম। ওই ব্যক্তি জানান, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেলে তিনি একটি নমুনা তালাকনামা এআই-কে দিয়ে অনুরূপ আরেকটি নোটিশ তৈরি করান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর নাম সংযুক্ত করে নিজ হাতে লেখা স্বাক্ষরের ছবি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে দেন।
ফতোয়ায় মুফতি তাওহীদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ইসলামে লিখিত তালাক (طلاق কিতাবী) একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বীকৃত মাধ্যম। স্বামী যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি বা কোনো উপায়ের মাধ্যমে তালাকের সুস্পষ্ট বার্তা সংবলিত কাগজ প্রস্তুত করেন এবং সেখানে স্বামীর সায় বা সম্মতি থাকে, তবে তা লিখিত তালাক হিসেবে গণ্য হবে। লিখিত তালাকের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাক্ষী থাকা বা স্ত্রীকে সরাসরি হস্তান্তরের শর্ত বাধ্যতামূলক নয়।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, তালাকনামাটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো উপায়ে লেখা হয়েছে তা মূল বিবেচ্য বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, স্বামী স্বজ্ঞানে ও জেনে-বুঝে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এটি গ্রহণ করেছেন এবং নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করেছেন। ফলে লিখিত সেই তালাকনামায় যতটি তালাক লেখা থাকবে, ঠিক ততটি তালাকই শরয়িভাবে স্ত্রীর ওপর পতিত বা কার্যকর হবে। যদি সেখানে এক তালাকের কথা লেখা থাকে তবে ‘এক তালাকে রাজঈ/বায়েন’ এবং যদি তিন তালাক লেখা থাকে তবে ‘তিন তালাক’ কার্যকর হয়ে যাবে।
এ ফতোয়ার সমর্থনে হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’ (ফতোয়ায়ে আলমগিরী) এবং ‘ফাতাওয়া শামি’ (রাদ্দুল মুহতার)-এর রেফারেন্স বা দলিল উল্লেখ করা হয়েছে। শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগ বা ক্ষোভের বশে প্রযুক্তির ব্যবহার করে এ ধরনের সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।