দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ: পর্তুগালের বুকে মানবিকতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক

০ শেয়ার
লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ: পর্তুগালের বুকে মানবিকতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক

পর্তুগালের লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ কেবল একটি ইবাদতখানা নয়, বরং এটি শিক্ষা, মানবতা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য কেন্দ্র। মসজিদটির ইতিহাস ও মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তের দেশ পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ (Mesquita Central de Lisboa) আজ কেবল মুসলিমদের উপাসনালয় নয়, বরং এটি মানবতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও আন্তধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
  • ১৯৬৬ সালে লিসবনে মসজিদ নির্মাণের স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলেও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭৯ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
  • সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এই মসজিদটির স্থাপত্যে ইসলামি ঐতিহ্য ও পর্তুগিজ নকশার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে।

ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তের দেশ পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ (Mesquita Central de Lisboa) আজ কেবল মুসলিমদের উপাসনালয় নয়, বরং এটি মানবতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও আন্তধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৬৬ সালে লিসবনে মসজিদ নির্মাণের স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলেও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭৯ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এই মসজিদটির স্থাপত্যে ইসলামি ঐতিহ্য ও পর্তুগিজ নকশার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে।

এই মসজিদটি লিসবনের মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সেবার এক আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। প্রতি মাসে অসচ্ছল মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ এবং বড়দিনের আগে প্রায় ২০০ জন অমুসলিম ও অভাবী মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মতো উদ্যোগগুলো সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এছাড়াও রমজান মাসে প্রায় এক হাজার রোজাদারের জন্য প্রতিদিন বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার প্রসারেও লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানে শিশুদের আরবি ও ইসলামি নৈতিকতা শিক্ষা থেকে শুরু করে নবমুসলিমদের জন্য বিশেষ শিক্ষা এবং কুরআন হিফজের ক্লাস পরিচালিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, এসব শিক্ষামূলক কার্যক্রমে মুসলিমদের পাশাপাশি বহু অমুসলিম শিক্ষার্থীও অংশগ্রহণ করে, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহায়তা করছে।

ইসলামের উদার ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতি মাসে অনেক মানুষ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করছেন। পর্তুগালের রাষ্ট্রপতিরা দায়িত্ব গ্রহণের পর এই মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং ২০০৮ সালে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও এই মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন, যা এর আন্তধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়। প্রতিবছর প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থী ও গবেষক এই মসজিদ পরিদর্শন করেন, যা প্রমাণ করে যে লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদ আজ কেবল উপাসনার স্থান নয়, বরং একটি আদর্শ সমাজ গঠনের প্রাণকেন্দ্র।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

আমি দেশে থাকলে সাহসের জন্য এই তরুণকে জড়িয়ে ধরতাম

2

সৌদিতে বিদেশি কোম্পানির সম্পত্তি মালিকানা

3

অবশেষে নতুন জার্সি পেল বাংলাদেশ

4

শারদীয় শুভেচ্ছা জানানো কি জায়েজ নাকি হারাম? ইসলামের বিধান

5

এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ: ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য সুখবর

6

চুম্বনের দৃশ্য ছাড়াই ১০০ কোটির ক্লাবে ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপান ২’

7

সুকুক বন্ডে সাধারণ মানুষের জন্য ১০ শতাংশ বরাদ্দ

8

একই পদ্ধতিতে ভিন্ন ফল আশা করা যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

9

সার সংকট নিয়ে উত্তপ্ত কুড়িগ্রাম

10

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ব্যাংকগুলোর অনীহা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নির্দেশনা