ব্রণ, চুল পড়া বা হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি কি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ? নারীদের পিসিওএস ও হরমোন সমস্যা সমাধানের কার্যকরী পরামর্শ জেনে নিন।
অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া, ব্রণ কিংবা হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোকে অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা বা মানসিক চাপের সাধারণ ফল বলে উড়িয়ে দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই সাধারণ উপসর্গগুলো অনেক সময় শরীরে হরমোনের গুরুতর ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়। নারীদের ক্ষেত্রে বহুল পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম’ বা পিসিওএস-এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো এই শারীরিক পরিবর্তনগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওএস সরাসরি নারীদের মাসিক চক্র, প্রজননক্ষমতা, বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তবে এর উপসর্গগুলো সবসময় সমানভাবে প্রকাশ পায় না বিধায় দীর্ঘদিন বিষয়টি অনেকের অগোচরেই থেকে যায়। খ্যাতিমান পুষ্টিবিদ নমামি আগরওয়াল সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জানান, ব্রণ হওয়া, চুল ঝরে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, নির্দিষ্ট কোনো খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং আকস্মিক ওজন বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে শুধুই স্ট্রেস বা মানসিক চাপ হিসেবে ধরে নিলে বড় ভুল হবে। পিসিওএসের কারণে শরীরের ভেতরের হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা নষ্ট হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো শরীরের ওপর।
হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পিসিওএসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, আঁশসমৃদ্ধ খাবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এমন খাবার রাখা উচিত। তবে সবার শারীরিক গঠন ও বিপাকক্রিয়া এক নয় বিধায় প্রত্যেকের জন্য একই ডায়েট বা খাদ্যতালিকা কার্যকর নাও হতে পারে। তাই শরীরের ধরন বুঝে ব্যক্তিগত পুষ্টি পরিকল্পনা বা কাস্টমাইজড ডায়েট অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
পিসিওএসে আক্রান্ত নারীদের জন্য জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনার ওপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো, শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সহায়ক খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা। বিশেষ করে কার্ডিও এবং পেশি শক্তিবর্ধক বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের সঠিক সমন্বয় পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং যেসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে, সেগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, ব্রণ, অনিয়মিত মাসিক চক্র, ওজন বৃদ্ধি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো বড় ডায়েট বা চিকিৎসা শুরু না করে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (গাইনোকোলজিস্ট) অথবা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারলে সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পজিটিভ পরিবর্তনের মাধ্যমে পিসিওএস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।