চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে জাপান, ভারত, রাশিয়া ও এআইআইবি থেকে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পায়নি বাংলাদেশ। বরং রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাপান, ভারত, রাশিয়া এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি),এই চারটি বড় উৎস থেকে এ সময় নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। যদিও এসব দেশ ও সংস্থা থেকে পুরোনো প্রকল্পের ঋণ বাবদ অর্থ ছাড় অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিশ্রুতির চিত্র ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ভারত: ২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনের পর ভারত থেকে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি আসেনি। ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় অর্থছাড়ের গতিও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ১১ মাসে ভারত ছাড় করেছে মাত্র ২৫ কোটি ডলার।
রাশিয়া: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করলেও, গত ১১ মাসে রাশিয়া নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই সময়ে রাশিয়া ছাড় করেছে ৯৩ কোটি ডলার।
জাপান: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও জাপান থেকে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি। তবে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে। ১১ মাসে জাপান ছাড় করেছে প্রায় ৪৩ কোটি ডলার।
এআইআইবি: এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়নি, তবে কনসোর্টিয়াম ঋণের বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা চলছে।
রেকর্ড ঋণ পরিশোধ: নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কমলেও, বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক নতুন রেকর্ড করেছে। জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। একই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান বাবদ এসেছে মাত্র ৪৫৮ কোটি ডলার। এছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং চীনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি মিললেও সার্বিকভাবে দেশের বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ৫৫০ কোটি ডলার, যা এবার নেমে এসেছে ৪২২ কোটি ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় দাতাদের কাছ থেকে নতুন প্রতিশ্রুতি না আসা এবং নিয়মিত বিপুল অংকের ঋণ পরিশোধের চাপ বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।