বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে। বুধবার কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা স্পিকারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ এবং কসোভোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মানুষের মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান, কেননা দুই দেশের জনগণই নিজেদের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে স্পিকার এসব কথা বলেন।
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সাক্ষাৎকালে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে নৃশংসতা চলেছে, তা জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্পিকার আরও বলেন, এ দেশের মানুষ অত্যন্ত গণতন্ত্রপ্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
কসোভোর রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও প্রস্তাব: কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনাকে স্বাগত জানান এবং বর্তমান সংসদের সংসদ সদস্যদের কার্যকর বিতর্কের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী উপযুক্ত শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আগাম স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে কসোভো সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তির গুরুত্ব: বৈঠকে উভয় পক্ষ দুই দেশের সংসদের মধ্যে সংসদীয় ককাস গ্রুপ গঠন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যৌথ অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে কসোভো দূতাবাসের প্রতিনিধিবর্গ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।