দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা সচল রাখা এবং পরিবহন ব্যবস্থার চাকা সচল রাখতে আগামী তিন মাসের জ্বালানি তেল আমদানির এক বিশাল মেগা প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। চলতি জুন থেকে আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। আমদানিকৃত এই তেলের চালানের মধ্যে মূলত চার ধরনের জ্বালানি পণ্য থাকবে— গ্যাস অয়েল (ডিজেল), জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি), ফার্নেস অয়েল এবং গ্যাসোলিন (অকটেন/পেট্রোল)।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ (CCGP)-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আমদানির প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আমদানির এই বড় ধাক্কা সামলাতে অর্থায়নের বিষয়টিকেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনস্থ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই পুরো আমদানির প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করবে।
অনুমোদিত প্রস্তাবের আলোকে আগামী তিন মাসের এই আমদানির বাণিজ্যিক রূপরেখা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
চারটি প্যাকেজে বরাদ্দ: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের (Open International Tender) নিয়ম মেনে মোট চারটি পৃথক প্যাকেজের আওতায় এই ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার তেল কেনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
ইউনিপেক সিঙ্গাপুরের বড় কাজ: আমদানির এই বিশাল বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রয় আদেশটি (Work Order) বাগিয়ে নিয়েছে সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর’ (Unipec Singapore)। প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
ভিটল এশিয়ার দুটি প্যাকেজ: আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ভিটল এশিয়া’ (Vitol Asia) দুটি আলাদা প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক ও নীতি নির্ধারকদের মতে, জুন থেকে আগস্ট সময়কালে বাংলাদেশে গরমের তীব্রতা এবং সেচ মৌসুমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ চূড়ায়। এই সময়ে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল এবং গণপরিবহনের জন্য গ্যাসোলিনের জোগান স্বাভাবিক রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সচিবালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ সামলে এই বড় অঙ্কের তেল আমদানির সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। সময়মতো এই ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি দেশে পৌঁছালে আগামী তিন মাস দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল থাকবে, লোডশেডিংয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হবে না। সরকার আশা করছে, এর ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন থাকবে।
মন্তব্য করুন