মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর (ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স) আরোপের পরিকল্পনায় ইউরোপের দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি কোনো ইউরোপীয় দেশ মার্কিন টেক জায়ান্টদের ওপর এই কর কার্যকর করে, তবে সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, এ ধরনের কর আরোপ হলে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে যাবে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ বড় সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর আয়ের ওপর ডিজিটাল কর আরোপ করছে। যুক্তরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, তাদের দেশে কার্যকর থাকা ২ শতাংশ ডিজিটাল কর থেকে গত অর্থবছরগুলোতে বড় অংকের রাজস্ব আদায় হয়েছে, যার আওতাভুক্ত অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। এপ্রিল মাসে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করেই এই কর আরোপ করা হয়েছে এবং ইউরোপ সহজে অর্থ আদায়ের পথ বেছে নিয়েছে।
এই হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘিত হলে ইইউ যথাযথ জবাব দিতে সক্ষম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন ঘোষণা ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প শুল্কনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করছেন। যদিও তার প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছিল, তবুও তিনি বিশ্বের প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তি খাতের কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন