|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১৬টি নথি জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ আসামের বাসিন্দা: গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায়

নিজস্ব ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে ১৬টি আলাদা নথি জমা দিয়েছিলেন আসামের বাসিন্দা আমিনুল হক। কিন্তু গুয়াহাটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারী নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি শামীমা জাহানের বেঞ্চ এই মামলার রায়ে ১৯৬৪ সালের বিদেশী আইনের ৯ নম্বর ধারাটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, যখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন তা প্রমাণ করার দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর ওপরই বর্তায়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন গুয়াহাটির ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’ আমিনুল হককে ‘বিদেশী’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন আমিনুল। নিজের দাবির স্বপক্ষে তিনি ১৯৫১ সালের এনআরসি-র অনুলিপি, একাধিক বছরের ভোটার তালিকা, জমি ক্রয়ের দলিল, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি এবং একটি স্কুল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। এমনকি আদালতে তার বাবা সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমিনুলকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। তবে আদালত এই মৌখিক সাক্ষ্যকে আইনিভাবে যথেষ্ট বলে মনে করেনি।

হাইকোর্টের রায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নথিপত্র এবং পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। আদালত জানিয়েছে, কেবল কিছু নথি জমা দিলেই নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না, বরং সেই নথিগুলোর মধ্যে যোগসূত্র থাকা জরুরি। রায়ে দেখা গেছে, আবেদনকারীর বাবা ও দাদার নামের বানানে মারাত্মক অসঙ্গতি ছিল। যদিও আদালত নামের বানান নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি ছিল, কিন্তু আবেদনকারী এটি প্রমাণ করতে পারেননি যে, তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে একই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরিবারের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকায় একেক সময় একেকভাবে থাকায় আদালত এই তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে স্কুলের সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে। ১৯৯৯ সালে স্কুল ছাড়ার যে সনদটি তিনি জমা দিয়েছিলেন, সেটি তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রধান শিক্ষক আদালতে এসে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে সেই নথিটিও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। ভোটার তালিকায় স্থানান্তরের বিষয়টি মৌখিকভাবে দাবি করা হলেও কোনো উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেননি আবেদনকারী। সবশেষে, ট্রাইব্যুনালের আগের রায়কেই বহাল রেখে আদালত আমিনুল হকের পিটিশনটি খারিজ করে দেয়, যা আসামে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে রইল।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসুনসিওনে ব্লাড মুন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ৯টি শক্

1

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল উরুগুয়ে: স্পেনের কাছে হার

2

সংবিধান সংস্কার পরিষদে রুমিন ফারহানার শপথ না নেওয়া নিয়ে এনসি

3

ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: দিতে হবে চড়া মূল্য

4

আলজেরিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা

5

ব্যস্ততার মধ্যেও যেভাবে বজায় রাখবেন ব্যায়ামের ধারাবাহিকতা

6

টানা চারবার কমার পর বাড়ল সোনার দাম

7

অস্ট্রেলিয়ার সামনে কি ইনিংস হারের শঙ্কা? যা বলছে ইতিহাস | B

8

নতুন সামরিক কৌশলে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে নামার হুঁশিয়ারি ইরানে

9

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম ‘ফিমেল জিমনেশিয

10

সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে:

11

পশ্চিম তীরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও ৮০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতারের খ

12

১২ গজের নিঃসঙ্গতা: বিশ্বকাপের নিষ্ঠুরতম ও আবেগঘন মুহূর্তের গ

13

শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম? ৩০ বছর পর মুখ খুললেন নীলা চৌধ

14

বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়া ক্যাম্পবেল থমসন কে?

15

রূপপুর প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার সরঞ্জামের বিল ২১৩ কোটি, ২৯ হাজ

16

২৫ বছরের যুবকের চরিত্রে ফিরছেন ৬১ বছরের আমির খান! আসছে নতুন

17

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাতিলের দাবি গুজব: শিক্ষা মন্ত

18

ভারত আমাদের বন্ধু, ইসরায়েলের পাশে ১৪০ কোটি মানুষ: বেনিয়ামি

19

রাজধানীতে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে দেয়াল ধসে নিহত ১,

20