দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভারতে যৌতুকজনিত মৃত্যুর উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: কেন নির্বাক প্রশাসন ও সমাজ?

০ শেয়ার
ভারতে যৌতুকজনিত মৃত্যুর উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: কেন নির্বাক প্রশাসন ও সমাজ?

১৯৬১ সালে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ভারতে যৌতুকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে কেন এই সহিংসতা এখন আর সামাজিক আলোড়নের জন্ম দেয় না।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ভারতে যৌতুক প্রথা ১৯৬১ সালেই আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
  • সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশটিতে যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতন ও হত্যার সংখ্যা কমার বদলে বরং উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
  • ২০২২ সালে ভারতে যৌতুকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫১৬ জন, যা ১৯৮৮ সালের ১ হাজার ৮৪১ জনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

ভারতে যৌতুক প্রথা ১৯৬১ সালেই আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশটিতে যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতন ও হত্যার সংখ্যা কমার বদলে বরং উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২২ সালে ভারতে যৌতুকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫১৬ জন, যা ১৯৮৮ সালের ১ হাজার ৮৪১ জনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। অথচ এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এখন আর আগের মতো জনমনে ক্ষোভ বা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের কিংস ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটের সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ড. কৃতি কাপিলা তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, বিয়ের পর যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারলে নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের হত্যা করা হচ্ছে বা আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে যৌতুককে ‘সামাজিক উপহার’ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে এটি বরের পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে বিশাল আর্থিক দাবিতে রূপ নিয়েছে। চাহিদামতো অর্থ না পেলে নববধূর ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৭০ ও ৮০-এর দশকে যৌতুকবিরোধী শক্তিশালী নারী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যা তৎকালীন সময়ে জনরোষের জন্ম দিত। কিন্তু বর্তমানে প্রতিবাদের পরিসর সংকুচিত হয়ে আসায় এই ধরনের সহিংসতাগুলো আর আগের মতো সংগঠিত আন্দোলনের রূপ নিতে পারছে না। হত্যার ধরন বদলে যাওয়ায় অনেক মৃত্যুকে এখন পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যার ফলে জনআন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া যৌতুকের আর্থিক বোঝা এড়াতে কন্যাসন্তান জন্মের আগেই ভ্রূণ হত্যার মতো জঘন্য প্রবণতাও ভারতীয় সমাজে নারী-পুরুষের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

প্রশাসনের নীরবতা এবং সামগ্রিকভাবে সমাজ থেকে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কমে যাওয়া এই সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ড. কৃতি কাপিলার মতে, যৌতুকজনিত সহিংসতা প্রতিদিন অসংখ্য নারীর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, কিন্তু তা আর রাজনীতির এজেন্ডায় উঠে আসছে না। এই নির্বাক পরিস্থিতিই প্রমাণ করে যে, আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানসিকতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সমাজ অনেক পিছিয়ে আছে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল এই মরণব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

যৌতুক প্রথা নির্মূলে ভারতের প্রশাসনিক ও সামাজিক ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত জানান।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

খামেনির শেষ বিদায়: মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান

2

নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপে অবহেলার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

3

২০২৬-এর বিপজ্জনক অ্যাপ তালিকা | ডিজিটাল ওয়ালেট প্রতারণা থেকে বাঁচুন

4

আসল গঙ্গার ইলিশ চেনার উপায়: গুজরাত বা নোনা মাছ কেনার আগে যা যাচাই করবেন

5

করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা করার পথে সরকার: বাজেট সংশোধনে সুখবর পাচ্ছেন করদাতারা

6

পিতার স্মরণসভায় প্রকাশ্যে কি আসবেন ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি?

7

‘অনেকেই পর্তুগালকে চেনে শুধু রোনালদোর কারণে’

8

ডাক বিভাগে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালুর উদ্যোগ

9

১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করছে সরকার

10

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু