ইয়েমেনের তাইজ ও লাহজ সীমান্তবর্তী কৌশলগত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের পর হুথিদের দুটি ঘাঁটি দখলের দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী।
ইয়েমেনের তাইজ ও লাহজ প্রদেশের সীমান্তবর্তী কৌশলগত এলাকায় তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দুটি ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফায়াদ আল-নুমান তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফায়াদ আল-নুমান জানান, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলা এবং লাহজ প্রদেশের আল-সুবাইহা এলাকার মধ্যবর্তী আল-আঘবারা রণাঙ্গনে হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই হয়। এই তীব্র লড়াইয়ের একপর্যায়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এ সময় সরকারি বাহিনীর অভিযানে হুথিদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় এবং তাদের শক্তিশালীকরণকারী বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করা হয়। এছাড়া, তাইজের পশ্চিমে আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-দারিফা এলাকার আল-হারথা গ্রামে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান ও যানবাহনকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত অবস্থানের কারণে আল-আঘবারা এলাকাটি হুথিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাহজ ও তাইজ এই দুই প্রদেশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চল থেকেই দুই প্রদেশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থানরত যোদ্ধাদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হতো। সেদিক থেকে এই দুই ঘাঁটি হারাটায় হুথিদের সামরিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সামরিক এই অভিযানের পর এখন পর্যন্ত হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, আকস্মিক এই ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ হারানোর জেরে কৌশলগত কোণঠাসা অবস্থার কারণে তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।