যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হটিয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। টেক্সাস ও ওহাইওসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়ে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২টিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদলের ঘটনা ঘটেছে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতে ২টি করে মোট ১০০টি আসন রয়েছে সিনেটে। নিয়ম অনুযায়ী, কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যেকোনো দলকে অন্তত ৫১টি আসন পেতে হয়। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ১৫টিতেই জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের মোট আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২টিতে। এছাড়া আরও ৩টি আসনে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় আসন সংখ্যা আরও বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়: এবারের নির্বাচনে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহিও এবং সাউথ ক্যারোলাইনার মতো হাই-ভোল্টেজ রাজ্যগুলোতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
জর্জিয়া: এই অঙ্গরাজ্যে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা জন অসফ।
টেক্সাস: গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাটদের খরা থাকা এই রাজ্যে রিপাবলিকানদের দুর্গ ভেঙে বড় অঘটন ঘটিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। তিনি ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনা: সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন।
সাউথ ক্যারোলাইনা: প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুস।
ওহাইও: দুই বছর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দখলে থাকা আসনটি এবার নিজেদের ঝুলিতে পুড়েছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন।
যদিও মিশিগান ও মিনেসোটার মতো দু-একটি জায়গায় ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হয়েছে কিছু আসন, তবুও সামগ্রিক ফলাফলে মার্কিন সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদেরই হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বাধা তৈরি করবে।