শাওমি, রেডমি ও পোকোর ৮০টির বেশি ডিভাইসে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে হাইপারওএস ৪-এর স্থিতিশীল আপডেট দেওয়া শুরু হবে। নতুন সংস্করণে থাকছে গ্লাসি ডিজাইন, উন্নত পারফরম্যান্স, ক্যামেরা সুবিধা, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং বাড়তি গোপনীয়তা সুরক্ষা।
শাওমি, রেডমি ও পোকোর ৮০টির বেশি ডিভাইসে নতুন অপারেটিং সিস্টেম হাইপারওএস ৪ আপডেট দিতে যাচ্ছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী এর স্থিতিশীল সংস্করণ উন্মুক্ত করা শুরু হবে। নতুন এই অপারেটিং সিস্টেমে শুধু ইন্টারফেসের পরিবর্তন নয়, পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায়ও যুক্ত হচ্ছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা।
কোম্পানির এক্সে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ডিভাইসগুলোকে তিনটি ধাপে ভাগ করে হাইপারওএস ৪ আপডেট দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে থাকবে শাওমি ১৭ ও ১৫ সিরিজ, রেডমি নোট ১৭ ও নোট ১৫ সিরিজ, পোকো এফ৮ ও এক্স৮ সিরিজ এবং শাওমি প্যাড ৮ ট্যাবলেট।
দ্বিতীয় ধাপের আপডেট শুরু হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি। এ পর্যায়ে হাইপারওএস ৪ পাবে শাওমি ১৫টি সিরিজ, পোকো এফ৭ ও এফ৯ সিরিজ, শাওমি প্যাড ৭ এবং রেডমি ও পোকোর কয়েকটি ট্যাবলেট। আর পুরোনো ডিভাইসগুলোর জন্য আপডেট আসবে ডিসেম্বর মাসে। এ তালিকায় রয়েছে শাওমি ১৪ ও ১৩ সিরিজ, শাওমি মিক্স ফ্লিপ, শাওমি ১৩টি সিরিজ, রেডমি নোট ১৪ সিরিজ এবং পোকো এফ৬ সিরিজ।
তবে এই সময়সূচি আপডেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্দেশ করে। প্রতিটি ডিভাইসে ঠিক কোন তারিখে আপডেট পৌঁছাবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। অঞ্চলভেদে ব্যবহারকারীরা ভিন্ন সময়ে আপডেট পেতে পারেন।
অ্যান্ড্রয়েড ১৭-এর ভিত্তিতে তৈরি হাইপারওএস ৪-এ ‘সফট লাইট গ্লাস’ নামে নতুন ডিজাইন যুক্ত করেছে শাওমি। এতে থাকবে স্বচ্ছ প্যানেল, নতুন নকশার নোটিফিকেশন, নিজের পছন্দমতো সাজানো যায় এমন লক স্ক্রিন, নমনীয় অ্যাপ ফোল্ডার এবং স্তরভিত্তিক উইজেট। পাশাপাশি ফ্লোটিং উইন্ডোর ব্যবহার আরও সহজ করা এবং অ্যানিমেশন মসৃণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও উন্নতির দাবি করেছে শাওমি। কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা ৯ ঘণ্টা ব্যবহারের পর ৩০টি অ্যাপ চালু করতে হাইপারওএস ৩-এ যেখানে ৪০.৩ সেকেন্ড সময় লাগে, হাইপারওএস ৪-এ তা কমে হবে ৩৬.৮ সেকেন্ড। অর্থাৎ অ্যাপ চালুর সময় কমবে ৮.৭ শতাংশ।
ক্যামেরার এইচডিআর ছবি ধারণের গতিও বাড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগের সংস্করণে এ কাজ সম্পন্ন হতে ৩১৩.৩৮ মিলিসেকেন্ড সময় লাগলেও নতুন সংস্করণে লাগবে ২৪০.১৬ মিলিসেকেন্ড। এ ছাড়া ভিডিও চালানোর সময় ফ্রেম ড্রপ বা দৃশ্য আটকে যাওয়ার ঘটনাও কমবে বলে দাবি শাওমির।
হাইপারওএস ৪-এ শাওমির এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার শিয়াওআইয়ের নতুন সংস্করণ ২.০ যুক্ত হচ্ছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মিমো (MiMo) লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ছবির লাইব্রেরি থেকে নির্দিষ্ট ছবি খুঁজে বের করা, সময়সূচি সাজানো, সমর্থিত স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ এবং স্ক্রিনে দেখা কোনো পণ্য শনাক্ত করার মতো কাজ করা যাবে।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন অপারেটিং সিস্টেমে। সংবেদনশীল কোনো কাজ—যেমন তথ্য মুছে ফেলা বা শেয়ার করার আগে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে নিশ্চিতকরণ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সুপার আইল্যান্ড ফিচারে যুক্ত হচ্ছে ১৩০টির বেশি সেবার সমর্থন।
তবে হাইপারওএস ৪-এর কিছু সুবিধা নির্দিষ্ট ডিভাইস এবং চীনের সফটওয়্যার সংস্করণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবহারকারীরা সব সুবিধা পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে হাইপারওএস ৪-এ নকশার পরিবর্তনের পাশাপাশি পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, এআই এবং নিরাপত্তায় বেশ কিছু উন্নতি আনার পরিকল্পনা করেছে শাওমি। বিশ্বব্যাপী আপডেট চালু হলে নতুন এআই প্রযুক্তি ও অন্যান্য সুবিধার কতটা আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।