বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ইরানের সাউথ পার্সে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এশিয়ার বাজারে সর্বোচ্চ ১১২ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। শুধু তেল নয়, একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের গ্যাসের দামও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মূলে রয়েছে গত ১৮ মার্চ ভোরে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে চালানো আকস্মিক হামলা, যার প্রভাবে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, গ্যাসক্ষেত্রের আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাতের বদলে তারা কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আক্রমণের উৎস দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করাকে তারা এখন বৈধ বলে মনে করছে। এদিকে ইরানের প্রতিবেশী এবং একই গ্যাসক্ষেত্রের অংশীদার কাতারও তাদের রাস লাফান শিল্প এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতারের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিতিশীলতা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তাদের নৌ-পরিবহন সংক্রান্ত ‘জোন্স অ্যাক্ট’ শিথিল করেছে যাতে অভ্যন্তরীণভাবে তেল ও গ্যাস সরবরাহ সহজতর হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়া বা আইন শিথিলের মতো পদক্ষেপগুলো খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না, কারণ খুচরা বাজারে দাম বাড়ার মূল কারণ পরিবহন ব্যয় নয় বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা। যতদিন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত না হবে, ততদিন তেলের বাজারে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং অস্থিরতা অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন