সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জারি করে। এসব অবৈধ অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত ও হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনা বাড়ায় বিএফআইইউ সাধারণ মানুষকে চার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন এসব অ্যাপ গ্রাহকদের মুঠোফোনের কন্টাক্ট লিস্ট, ব্যক্তিগত ছবি ও অন্যান্য স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের মানসিকভাবে চাপ দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন অমান্য করে পরিচালিত এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিএফআইইউর নজরদারিতে থাকা ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের তালিকার মধ্যে রয়েছে:
সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব ও দোস্ত লোন।
টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ ও ফাস্ট লোন।
ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন ও স্মার্ট লোন বিডি।
অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে অপরিচিত কোনো অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব বা ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়া এবং ঋণ দেওয়ার নামে অগ্রিম ফি বা নিবন্ধন ফি দাবি করা হলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে বা এগুলোর সন্ধান পেলে তা সরাসরি বিএফআইইউর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অভিযোগ আকারে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন