নিজের বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন মাগুরার প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান। এতে তার মাসিক আয় হচ্ছে ৭ হাজার ৩৫০ টাকা।
নিজের প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাগুরার এক প্রকৌশলী। মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন নিজের খরচ বাছাচ্ছেন, তেমনি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।
জানা গেছে, ঢাকার নবাবপুর থেকে বিএসটিআই ও স্রেডা অনুমোদিত মানসম্মত সোলার প্যানেল সংগ্রহ করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে নিজের একতলা ভবনের ছাদে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেন আখতারুজ্জামান। প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘সালেহা অয়েল মিল’ নামক এই নেট মিটারিং প্রকল্পে অনগ্রিড ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে এই প্ল্যান্ট থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা তার নিজস্ব তেল মিল ও এলপিজি স্টেশনের প্রয়োজনীয় আলোর প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা মেটানোর পর বাকি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরাসরি মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ টাকা।
তার এই সফল ও সময়োপযোগী উদ্যোগ এলাকার শিক্ষিত তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যেও দারুণ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখন তার এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দেখতে এবং এ বিষয়ে ধারণা নিতে আসছেন। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম এই উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার এমন ব্যবহার অন্যদেরও দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।