খুলনায় গত কয়েক দিনে দফায় দফায় গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বটিয়াঘাটায় মুখোশধারীদের গুলিতে যুবদল নেতা ও ছাত্রদল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পৃথক ঘটনায় এক তরুণকে গুলি করে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনতাই এবং নগরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরও একজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ জনপদ খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবার পৃথক স্থানে গুলি ও ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদল নেতাসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা মুখোশধারী দুই ব্যক্তির গুলিতে আহত হন স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ওহিদুল ইসলাম বাদল (৪৫)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, খুলনা জেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর বুকে ও কোমরে দুটি গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিরালা ১৭ নম্বর রোডে সালমান (২৩) নামের এক সিগারেট কোম্পানির কর্মীকে গুলি করে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের ধারণা, ব্যাগে নগদ টাকা রয়েছে মনে করেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এদিকে এর আগের দিন সোমবার মধ্যরাতে একই উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ৭ নম্বর আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখ (৩৬)। মোটরসাইকেলে বসা অবস্থায় দুটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁর ডান হাত ও পেটে গুলিবিদ্ধ হলে প্রথমে খুলনা মেডিকেল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অপরদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় মহানগরীর সদর থানাধীন পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় খাদিমুল মাদ্রাসার পাশের গলিতে ছিনতাইয়ের শিকার হন রাসেল (৩২) নামের এক ব্যক্তি। ৬-৭ জনের একটি ছিনতাইকারী দল তাঁকে ছুরিকাঘাত করে নগদ ৬০০ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাগাতার এসব অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।