ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সুদের টাকার পাওনা নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ যেন থামছেই না। টানা তিন দিন ধরে উপজেলার কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজনের মধ্যে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশারফ মিয়া ও ধরন্তি গ্রামের খাদিম মিয়ার মধ্যে সুদের এক লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই বিরোধের জেরে দুই গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে খাদিম মিয়া নামে একজন নিহত হন। এরপর থেকেই এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে খাদিম মিয়ার জানাজা শেষে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ওইদিন বিকেলের দিকে হওয়া সংঘর্ষে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়াসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালেও দুই পক্ষ ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিভিন্ন দোকানপাট ও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এই সংঘর্ষের ফলে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ এবং টানা তিন দিনের সংঘর্ষের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এই পরিস্থিতি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রাম্য সালিশি কমিটির ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন