দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের পর এবার দক্ষিণ-পশ্চিমের সুন্দরবন উপকূলীয় নদীপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টানা নজরদারি, কঠোর অবস্থান ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই অবৈধ চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সাতক্ষীরার কৌশলগত ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু করে বুধবার (১০ জুন) সকাল পর্যন্ত বিএসএফের এই পুশইনের তৎপরতা চলে। বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার কারণে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের কোনো পয়েন্ট দিয়েই সীমান্ত পার হতে পারেনি।
১৭ বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন জলসীমা ও নদীপথকে পুঁজি করে বিএসএফ এই অনুপ্রবেশের ছক কষেছিল। ঘটনার মূল চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
নারী ও শিশুসহ পুশইনের চেষ্টা: ভারতের ৭৪ ও ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ১৮ থেকে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে সুন্দরবনের উপকূলীয় নদীপথ এবং স্থলের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্ট দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
রাতভর টহল ও সতর্কবার্তা: বিএসএফের মুভমেন্ট টের পাওয়ার পরপরই সীমান্ত নদীগুলোতে বিজিবির স্পিডবোট ও বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা হয়। নদীপথের অন্ধকার ও ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যেন কেউ ঢুকতে না পারে, সেজন্য রাতভর টহল জোরদার করা হয়।
মাইকিং ও হুইসেল ব্যবহার: অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রাতে নদীপথে মাইকিং ও বিশেষ হুইসেল ব্যবহার করে ভারতীয় বিএসএফকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয় যে, বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ অ্যাকশন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
অবৈধ অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা প্রতিহত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব গণমাধ্যমকে বলেন, "কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বহিরাগত বাহিনীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে পুশইনের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর সুন্দরবন ও সাতক্ষীরা উপকূলীয় সীমান্তের জল ও স্থলভাগের প্রতিটি আউটপোস্টে (BOP) অতিরিক্ত বিজিবি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। বিএসএফ যাতে নতুন করে কোনো পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করতে না পারে, সেজন্য দূরবীন ও নাইট ভিশন ক্যামেরার সাহায্যে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন