সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হলে বনসংলগ্ন গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বুধবার (৪ নভেম্বর) সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেললে বনসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা কার্যালয় এবং বাগেরহাট ও মোংলা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ও সতর্কতা: সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) মধ্যে বন বিভাগের যথাযথ অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে রিসোর্ট গড়ে ওঠার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রিসোর্টগুলোর বর্তমান কার্যক্রম, শব্দদূষণ, বন্যপ্রাণী ও হরিণ শিকারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড কিংবা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা স্বচক্ষে দেখতে এই পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, রিসোর্টগুলোতে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সেখানে জেনারেটর চালিয়ে শব্দদূষণ করা যাবে না। বনের পরিবেশের সামান্যতম ক্ষতি হয় এমন কোনো কার্যকলাপ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সুন্দরবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা: পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, তাৎক্ষণিকভাবে রিসোর্টগুলোতে মারাত্মক ক্ষতিকর কোনো দিক তাঁর চোখে পড়েনি। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করে রিসোর্টগুলোর বৈধতা ও পরিবেশগত প্রভাব (EIA) যাচাইয়ের পর মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ অক্টোবর সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার এসব রিসোর্ট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রীর এই সরাসরি পরিদর্শনের পর রিসোর্টগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে।