এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে এআইইউবি-কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তবে খেলা শেষে বিজয়ী ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ওপর এআইইউবি শিক্ষার্থীদের অতর্কিত হামলা, বাসে ভাঙচুর এবং অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে (AIUB) পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU)। তবে ট্রফি জয়ের পরপরই খেলার মাঠের আনন্দ রূপ নেয় চরম আতঙ্কে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে বিজয়ী দলের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এআইইউবির একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
হামলা ও অবরুদ্ধের বিবরণ: ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, খেলা শেষ হওয়ার পরপরই মাঠের বাইরে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এআইইউবির একদল শিক্ষার্থী। তারা ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) এবং ৬টি নন-এসি বাস ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা লাঞ্ছনার শিকার হন। ঘটনার সময় আহতদের বহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স, ৩০টিরও বেশি বাস এবং মাঠে থাকা প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বসুন্ধরা গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশের সহায়তায় তাঁরা নিরাপদে বের হয়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া: আনভীর-বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’ টুর্নামেন্টের মতো সুন্দর আয়োজনের প্রশংসা করার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ। অবরুদ্ধ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানায় তারা।
এক বিবৃতিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি জানায়, “খেলাধুলা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বিকাশের মাধ্যম। জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা। এ ধরনের হামলা ও সহিংস আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় আশা করে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আয়োজক পক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।