যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয় ও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে 'ইরান যুদ্ধ' ভূমিকা রেখেছে বলে স্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো 'পাগলামি' বিলে ভেটো দেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে অবশেষে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এ-ও দাবি করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপকে ভোটাররা দিনশেষে সমর্থনই করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় নির্বাচনে এই ফলাফলের পেছনে ইরানের বিষয়টি কিছুটা দায়ী। তবে একই সঙ্গে মার্কিন মানুষ এটাও বুঝতে পেরেছে যে ইরানের ক্ষেত্রে আমি যা করেছি, তা কতটা প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় ও কমবে ট্রাম্পের ক্ষমতা: মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসন এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের (প্রতিনিধি পরিষদ) ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফলে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি বা 'রেড স্টেট'গুলোতে ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয়কে মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর মার্কিন ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই জয়ের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারণ ও ক্ষমতার ওপর বিরোধীদের কড়া ভেটো ও নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি: কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই আধিপত্য ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণকে খর্ব করলেও কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন, তা সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো কোনো প্রস্তাবিত আইন বা বিল মানবেন না।
ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ডেমোক্র্যাটরা) আমার কাছে এমন সব প্রস্তাব পাঠাবে যা পুরোপুরি 'পাগলামি'। আর আমি সেগুলোতে সরাসরি ভেটো দেব। কয়েক মাস ধরে টানা ভেটো দেওয়ার পর, বাধ্য হয়ে তারা ফোন করে জানতে চাইবে, 'কীভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা যায়?' ঠিক তখনই আমরা একসঙ্গে বসে কাজ করব।”
পরাজয়ের নেপথ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্ত: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন সাধারণ ভোটাররা।
এছাড়া সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, কানসাস ও ওহাইওর মতো রিপাবলিকান দুর্গে যোগ্য প্রার্থী উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমর্থনে মনোনয়ন দেওয়াকেও এই পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টেক্সাসে অভিশংসিত ও কেলেঙ্কারিতে জড়ানো অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় অনভিজ্ঞ ডারলিন গ্রাহামকে ট্রাম্পের পছন্দে টিকিট দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, যা ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সমর্থকদের বুথে টানতে “মনে করবেন, ব্যালটে আমার নামও আছে” বলে প্রচার চালালেও বিপর্যয়ের মুখ দেখে নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ কিছুটা আত্মরক্ষামূলক সুর মেলান ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “আমি তো আর ব্যালট পেপারে ছিলাম না! আমি থাকলে বিশাল ব্যবধানে আমরাই জয়ী হতাম।”