উত্তর কোরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ কোরিয়ার গাংওন প্রদেশের একটি সামরিক চৌকিতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক স্টাফ সার্জেন্টের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বেসামরিক ও সামরিক যৌথ তদন্ত শুরু হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী একটি সামরিক নিরাপত্তা চৌকি থেকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক দক্ষিণ কোরীয় সেনাকে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকেরা। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে এই ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি’।
দক্ষিণ কোরীয় সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত ওই সেনা দেশটির সেনাবাহিনীর একজন স্টাফ সার্জেন্ট ছিলেন। গাংওন প্রদেশের চেওরওন কাউন্টিতে অবস্থানরত একটি সীমান্ত রক্ষা সামরিক ইউনিটে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার তৎপরতা: দক্ষিণ কোরীয় সংবাদমাধ্যম ‘মানি টুডে’র তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে জরুরি সেবা নম্বরে একটি ফোন বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় জানানো হয় যে, উত্তর কোরিয়া সীমান্তসংলগ্ন একটি নিরাপত্তা চৌকিতে এক সেনাসদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
প্রাথমিক কয়েকটি প্রতিবেদনে সেনাটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও ঠিক কী কারণে তিনি কীভাবে এই মারাত্মক আঘাতের শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সেনাসদর থেকে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
যৌথ তদন্ত ও সামরিক উত্তেজনা: দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সেনাসদস্যের মৃত্যুর আসল কারণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটন করতে সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা এবং বেসামরিক তদন্তকারীরা যৌথভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছেন।
দুই প্রতিবেশী দেশের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এই রহস্যজনক নিহতের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যবর্তী স্পর্শকাতর অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) এক ভয়াবহ স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হন।
ওই হামলার জন্য পিয়ংইয়ংকে অভিযুক্ত করেছিল সিউল, যদিও উত্তর কোরিয়া সে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। পরবর্তী সময়ে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি ভারী অস্ত্র মোতায়েনের হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়া এবং জবাবে যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি জারি করে দক্ষিণ কোরিয়া।