পোশাক খাতকে ধ্বংসের পাঁয়তারা এবং অস্থিরতা সৃষ্টিতে চক্রান্তকারীদের হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অপচেষ্টা রুখতে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা, সহিংসতা ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের পেছনে ষড়যন্ত্রকারী ও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার এই অপচেষ্টা রুখতে সরকারকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
ভাঙচুর ও চক্রান্ত নিয়ে জামায়াত আমীরের ক্ষোভ: পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে চলেছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিক কখনোই নিজেদের শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের দাবি বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো প্রকৃত শ্রমিক এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে যুক্ত হতে পারেন না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় ৬০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।
শীত মৌসুমের অর্ডার ও সরকারের প্রতি আহ্বান: সামনে শীত মৌসুমের বিশ্ব বাজারকে ঘিরে পোশাকখাতে যে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ভণ্ডুল করতেই পরিকল্পিতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
তিনি বলেন, “শীত মৌসুমের সম্ভাবনা ধ্বংস করার পেছনে কোনো গভীর ষোড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি উসকে দেওয়া ধান্দাবাজ ও চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে সরকারকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে।”
একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় কারখানা মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য, আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আকুল আহ্বান জানান তিনি।