ওয়াশরুমে বা কমোডে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি উভয়ের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও টয়লেটে কথা বলা বা ফোন ব্যবহার করা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।
বর্তমান সময়ে অনেকেরই টয়লেটে যাওয়ার সময় সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখার বদঅভ্যাস রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, ওয়াশরুমে ফোন নিয়ে যাওয়া বা সেখানে বসে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই সামান্য অভ্যাসের কারণে অজান্তেই ডেকে আসতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবাণু সংক্রমণ। বিশেষ করে কমোডে দীর্ঘক্ষণ বসে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস শারীরিক নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ও ইসলামী বিধান: স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির পাশাপাশি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ওয়াশরুমে ফোন ব্যবহার বা কথা বলা নিন্দনীয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। কারণ, ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, যেখানে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা অনুচিত।
তবে জরুরি প্রয়োজনে কিছু বিশেষ ছাড় রয়েছে। যেমন—ওয়াশরুমে থাকা অবস্থায় যদি পানি বা টিস্যু ফুরিয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিক সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে কাউকে ডেকে কথা বলা জায়েজ রয়েছে। অর্থাৎ, ওয়াশরুমে কথা বলা সরাসরি হারাম না হলেও একে 'মাকরূহ' বা অপছন্দনীয় বলা হয়েছে এবং এ থেকে বিরত থাকার কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামিক স্কলারগণ।
জরুরি পরিস্থিতিতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন: কোনো বিশেষ কারণে যদি ওয়াশরুমে কথা বলতেই হয়, তবে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় মুখে আল্লাহ তায়ালার কোনো জাত বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কালিমা, দোয়া, কিংবা পবিত্র কোরআন-হাদিসের কোনো আয়াত বা আল্লাহর নাম সংবলিত কোনো কাগজ থাকলে তা উচ্চারণ করা যাবে না।
তাই সুস্থতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখতে ওয়াশরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং এই ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।