তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। পিবিআইয়ের কাছে মূল অভিযুক্ত দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ’ দেওয়ার তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যু নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশের কাছে আটক থাকা ছোট ভাই দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া’র বক্তব্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ ভালো সাঁতার জানতেন এবং ঘটনা আড়াল করতেই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিষয়টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তথ্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তাহসিফের বাবা বলেন, “আমার ছেলে দক্ষ পাইলট ছিল। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই ওর সুইমিংয়ের বড় কোর্স করা ছিল এবং সনদ রয়েছে। তাই ধাওয়া খেয়ে সাঁতার জানা ছেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে যাবে—এ কথা অবান্তর। কেন তাকে কেউ ধাওয়া করবে? পুরো ঘটনাটিকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”
এর আগে তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর ছোট ভাই দীপকে আটক করে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনাস্থলে কিছু লোক তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং সে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। দীপের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল, যা তাহসিফের কি না তা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি হত্যাকাণ্ড দাবি করে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নিহতের বাবা। ঘটনাটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান।