বগুড়ার শিবগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আনছার আলীকে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) আনছার আলীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ সুপারের আদেশের পর সোমবার রাতেই এসআই আনছার আলী কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা পুলিশ লাইনসে যোগ দিয়েছেন।
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর স্বামীর বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার তদন্ত করতে তাদের বাড়িতে যান এসআই আনছার আলী। তদন্তের সূত্র ধরে পরিচয়ের পর থেকে তরুণীর সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তরুণীর অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং ধর্ষণ করেন ওই এসআই।
পরবর্তীতে ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে এসআই আনছার আলী তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে কোনো উপায় না পেয়ে প্রতারণা ও ধর্ষণের শিকার তরুণী গত ৮ অক্টোবর বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযোগটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণীর বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার স্বপক্ষে এসআই আনছার আলীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং কিছু ভিডিও ফুটেজ সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দিতে চেয়েছেন ওই তরুণী।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী ওই তরুণীর মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একাধিকবার যাতায়াত করার সত্যতা মিলেছে। পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রমাণপত্রসহ সার্বিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।