সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন ব্যাংকের আমানতে কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত থাকছে না। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্কিমের বাইরেও টাকা তুলতে পারবেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। গভর্নর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ চার ডেপুটি গভর্নর উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো হেয়ারকাট কার্যকর হবে না। এ বিষয়ে গ্রাহকদের মনের সব ধরনের সংশয় ও অস্পষ্টতা দূর করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে ঘোষিত স্কিমের পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল টাকা নিজেদের প্রয়োজনমতো উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের জমানো আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়। এটি দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি থেকে এতদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহার করে সম্প্রতি সরকারের মনোনীত পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে এর সার্বিক কার্যক্রম হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন