গুরগাঁওয়ে বিয়ের তিন মাসের মাথায় প্রেমিকাকে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী ও তার প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর তারা নেপালে পালিয়েছিল। বিস্তারিত জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
ভারতের হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের মানেসরে ঘটেছে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে অঙ্কিত (২৫) নামে এক যুবক ও তার প্রেমিকা রজনী দেবীকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রায় এক মাসের পলাতক জীবন শেষে ভারত ফেরার সময় মানেসর ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।
নিহত ২২ বছর বয়সি ওই নারীর সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে হয়েছিল অঙ্কিতের। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় গত ২১ মে থেকে ওই নারী নিখোঁজ হন। পরদিন তার মায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে মানেসরের একটি কক্ষ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ মামলার তদন্ত জোরদার করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য। জানা যায়, গত তিন বছর ধরেই অঙ্কিত ও রজনীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজেদের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই তারা আগেভাগে হত্যার ছক কষেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস আগেই উত্তরপ্রদেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেন তারা। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে কৌশলে রজনীর ভাড়া করা কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে অঙ্কিত ও রজনী মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন।
হত্যার পরপরই অভিযুক্তরা হরিদ্বার হয়ে নেপালে পালিয়ে যান এবং প্রায় এক মাস সেখানে আত্মগোপনে থাকেন। কিন্তু অপরাধী যত চতুরই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ৩০ জুন ভারতে ফেরার পরপরই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ ঘটনার নেপথ্যের আরও তথ্য সংগ্রহে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পরকীয়ার অন্ধ নেশায় জড়িয়ে মানুষ কতটা নৃশংস হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি জঘন্য উদাহরণ। পারিবারিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এমন ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আপনার অভিমত কী? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।