পাঁচ দশকের বেশি সংগীতজীবনে ১৫ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের বর্ণাঢ্য প্লেব্যাক জীবন ও আলোচিত ২০টি গান নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
বাংলা সিনেমার গান মানেই কেবল সুর আর কথা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অগণিত মানুষের আবেগ ও স্মৃতি। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা বিষাদের অসংখ্য মুহূর্তে দর্শকের কাছে সেই স্মৃতির কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। কয়েক দশক ধরে সিনেমার গানে তাঁর কণ্ঠ এমনভাবে মিশে আছে যে, বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকের ইতিহাস থেকে তাঁকে আলাদা করে দেখা প্রায় অসম্ভব। জাহিদ আকবরের লেখা এক নিবন্ধে উঠে এসেছে এই জীবন্ত কিংবদন্তির বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের নানা অধ্যায়।
পাঁচ দশকেরও বেশি দীর্ঘ সংগীতজীবনে প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, যার মধ্যে দেড় হাজারের বেশি গান রয়েছে চলচ্চিত্রের ঝুলিতে। সিনেমার গানে অনন্য অবদানের জন্য তিনি অর্জন করেছেন রেকর্ড ১৫টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এহতেশামের ‘নতুন সুর’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম প্লেব্যাক করলেও বড়দের জন্য তাঁর প্রথম প্লেব্যাক ছিল ১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমার ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানটির মাধ্যমে। পরবর্তীতে কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’ সিনেমার ‘শুধু গান গেয়েই পরিচয়’ গানটির মাধ্যমে তিনি প্লেব্যাক জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৭৫ সালে ‘সুজন সখী’ সিনেমার ‘সব সখীরে পার করিতে নেবো আনা আনা’ গানের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে আর ঝরে’ (আলোর মিছিল), ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’ (অনুরোধ), ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মত’ (রজনীগন্ধা), ‘শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার জীবনে এলে’ (রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত), ‘দুঃখ ভালবেসে প্রেমের খেলা’ (জন্ম থেকে জ্বলছি) এবং ‘এই মন তোমাকে দিলাম’-এর মতো অমোঘ সব সৃষ্টি। ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই বরেণ্য শিল্পী ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পদার্পণ করেছেন। জন্মদিনে বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বর্ণালী অধ্যায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।