মানুষের জীবন মানেই সুখ ও দুঃখের এক বিচিত্র সমীকরণ। দারিদ্র্য, রোগশোক, প্রিয়জন বিয়োগ কিংবা নানা অনিশ্চয়তা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একজন মুমিনের কাছে এই কষ্টগুলো কেবল বিয়োগান্তক কোনো ঘটনা নয়, বরং এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ পরীক্ষা। যে ব্যক্তি এই কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে ধৈর্যের পরিচয় দেয়, তার জন্য আল্লাহ রেখেছেন অগণিত রহমত ও পুরস্কারের সুসংবাদ।
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি বান্দাকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। আর এই পরীক্ষার মুহূর্তে যারা ধৈর্য ধারণ করবে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলার ভাষায়— ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে প্রদান করা হবে।’ সুতরাং, দুনিয়ার কষ্টগুলো আসলে আখিরাতের চিরস্থায়ী শান্তির জন্য একটি পরিশোধন প্রক্রিয়া মাত্র।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে ফুটে উঠেছে মুমিনের জীবনের এক গভীর সান্ত্বনা। তিনি বলেছেন, একজন মুসলমানের ওপর যখন ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ বা কষ্ট আসে এমনকি একটি সামান্য কাঁটার আঘাতও লাগে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার পাপরাশি মোচন করে দেন। এটি মুমিনের জন্য এক পরম পাওয়া। কষ্টগুলো এখানে কেবল সহ্য করার বিষয় নয়, বরং এগুলো পাপমুক্তির মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করার এক একটি সুযোগ।
মুমিনের জীবন সত্যিই বিস্ময়কর। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আবার দুঃখে আক্রান্ত হলে সে ধৈর্য ধারণ করে, যা তার জন্য আরও বেশি পুরস্কারের পথ তৈরি করে। কষ্টকে জান্নাতের পাথেয় বানাতে হলে একজন মুমিনকে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে অটল থাকতে হবে:
প্রথমত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, যা হৃদয়ে প্রশান্তি জোগায়। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। তৃতীয়ত, সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। চতুর্থত, নিজেকে হারাম ও গুনাহ থেকে দূরে রাখা এবং পঞ্চমত, আল্লাহর রহমতের ওপর অবিচল আস্থা রাখা।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকের, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী। আজকের ছোটখাটো কষ্ট বা বড় পরীক্ষা হয়তো আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর অসীম করুণার কাছে তা অতি সামান্য। যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করে, তার জন্য আখিরাতে রয়েছে এমন প্রতিদান, যা কোনো মানুষের কল্পনারও অতীত। তাই বিপদ বা কষ্টে মুমিন হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, কারণ সে জানে এই সাময়িক ধৈর্যের পর রয়েছে জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে কবুল করুন এবং দুনিয়ার প্রতিটি কষ্টকে আমাদের জন্য পুরস্কারের সোপান বানিয়ে দিন। আমীন।
মন্তব্য করুন