গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকার চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই মিরপুর ১, ২, ১০, ১৩, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া এবং কালশীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে আছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানি বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটে ঢুকে পড়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রবল বৃষ্টির তোড়ে রাস্তাঘাট নদী হয়ে উঠেছে। গণপরিবহনের স্বল্পতা এবং অটোরিকশা বা সিএনজিচালিত যানবাহনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, রাস্তায় জমে থাকা পানিতে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সংকটময় এই সময়ে রিকশা ও সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন, যা তাদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মিরপুর মেট্রোস্টেশন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট থাকায় এই এলাকায় জনসমাগম সব সময়ই বেশি থাকে। কিন্তু বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। ভুক্তভোগীরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রতি এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডিএনসিসি অঞ্চল-৪ এর সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৫০ জন কর্মীর একটি দল নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, খালের দখলমুক্ত হওয়া এবং পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মিরপুরের এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন। বৃষ্টির এই দুর্যোগে মিরপুরবাসীর জন্য স্বস্তির কোনো খবর না আসায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বৃষ্টির কারণে প্রতি বছর মিরপুরের বাসিন্দাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, এই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার মতে সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ঠিক কী করা উচিত?
মন্তব্য করুন