ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল বনাম নরওয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শক্তির বিপরীতে নরওয়ের হয়ে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত আর্লিং হালান্ড। ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের আগ্রহের পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’ তাদের সুপারকম্পিউটারের ২৫ হাজার ম্যাচ সিমুলেশনের মাধ্যমে একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। অপটার হিসেবে, এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ। সামগ্রিক হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে ব্রাজিলের সম্ভাবনা ৬৫.৬ শতাংশ আর নরওয়ের ৩৪.৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে অন্য চিত্র দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। নরওয়ের তুরুপের তাস আর্লিং হালান্ড টানা ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করে রেকর্ড গড়েছেন এবং বিশ্বকাপে তার ফর্মও চোখ ধাঁধানো। অন্যদিকে, ব্রাজিলের মাঝমাঠ সামলাচ্ছেন ব্রুনো গিমারায়েস, যিনি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টে চারটি অ্যাসিস্ট করে ১৯৭০ সালের পর পেলের রেকর্ডের খুব কাছে পৌঁছে গেছেন। গিমারায়েসের পাসিং এবং হলান্ডের ফিনিশিং ক্ষমতার লড়াই এই ম্যাচটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দুই দলের আগের চারটি মুখোমুখি লড়াইয়ের একটিতেও ব্রাজিল জয়ের মুখ দেখেনি; নরওয়ে জিতেছে দুটিতে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এমনকি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও ব্রাজিলকে হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে সেলেসাওদের। তার ওপর, ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রেকর্ড বেশ হতাশাজনক। টানা ছয়বার নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে হার মানতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
সব মিলিয়ে, অপটার সুপারকম্পিউটারের গাণিতিক হিসাব এবং ফুটবলের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের লড়াই হতে যাচ্ছে আজ রাতে। পরিসংখ্যান হয়তো ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছে, কিন্তু হালান্ডের ভয়ংকর ফর্ম আর ইতিহাসের চাপের মুখে ব্রাজিল নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে এই হিসাব বদলে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মাঠে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিতভাবে বলার কোনো সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন